তাহিরপুর থানা সড়কে স্থানে স্থানে গর্ত, ভোগান্তি চরমে


তাহিরপুর সংবাদদাতা::
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ ভবন থেকে তাহিরপুর থানা পর্যন্ত সড়কের বেহাল অবস্থা। ভাঙ্গাচুরা সড়কে দুর্ভোগে পথচারী। উপজেলা ও থানা প্রশাসনের নিকটবর্তী সড়কে গত ১০-১২ বছর যাবৎ এই বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। নেই কোনো মেরামত। প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার পথচারী ও উপজেলাবাসী। উপজেলা পরিষদ ভবনের সামন থেকে থানা পর্যন্ত প্রায় দু’শ মিটার সড়কের বেহাল অবস্থা। স্থানে স্থানে ভেঙ্গে তৈরি হলো গর্ত। বৃষ্টিতে গর্তে পানি জমে কাঁদায় পরিণত হয়। উক্ত সড়ক পথে প্রতিনিয়ত উপজেলা সাস্থ কমপ্লেক্সে (হাসপাতাল) যাতায়াত করতে হয়। প্রতিদিন শত-শত রোগী এই সড়কপথে যাতায়াত করে। এই সড়কেই হাসপাতালে যাতায়াতের একমাত্র পথ। নানা রকম ভোগান্তি পোহাতে হয় হাসপাতালে যাতায়াত করতে। দেশ ও বিদেশ থেকে আগত হাজারো পর্যটক ও উপজেলার নারী, পুরুষ ও রোগী সহ সর্বস্তরের জনগণ এই পথে যাতায়াত করে। এ সড়কপথেই যেতে হয় উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র শিমুলবাগান, জাদুকাটা নদী, বারেকের টিলা ইত্যাদি। রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ, জেলা, উপজেলার সর্ব সাধারণ এ পথেই পর্যটন কেন্দ্রে যাতায়াত করে। এপথের মধ্যেই রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যার অবস্থান খলাহাটি গ্রামের মধ্যে। আবার এ সড়ক দিয়েই যাতায়াত করতে হয় উপজেলার একমাত্র কলেজে। প্রতিদিন শত-শত শিক্ষার্থী এপথেই যাতায়াত করে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সিএনজি, রিকশা, মোটরসাইকেল, এম্বুলেন্স, ট্রাক, সাইকেল সহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। যার ফলে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা লেগেই আছে। সড়কে কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই। সড়ক নির্মাণ করার কোনো পরিকল্পনার দেখাও মিলেনি আজও। সড়ক পথের অটো রিক্সা চালক লিটন জানান,উপজেলার পরিষদ ভবনের সামনের রাস্তা হতে থানা পর্যন্ত রিক্সা চালাতে প্রচুর কষ্ট হয়।কিন্তু কিছু করার নেই আমার। পেটেতো খাবার দিতে হবে!পেটের দায়ে এই ভাঙ্গাচুরা রাস্তায় রিক্সা চালাই।প্রায় সময় বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই। দ্রæত রাস্তা মেরামত হলে আমাদের রিক্সা চালাতে আর এতো কষ্ট হবে না। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিভিন্ন এলাকার পর্যটক যাত্রা করে। এই সড়কপথে প্রায় সময় এমপি, মন্ত্রী,বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি, এসপি, চেয়ারম্যান, ইউএনও, এসিল্যান্ড, ওসি সহ বিভিন্ন দপ্তরের অফিসারগন সরকারী গাড়ি নিয়ে চলাচল করেন। উনাদের দামী গাড়িতে চলাচল করলে এতোটা কষ্ট হয় না।যদি সর্বসাধারণের মতো কমদামী গাড়িতে চলাচল করা হতো তবেই সাধারণের কষ্ট চোখে পড়তো। তাদের এই গাফিলতি কারণে প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহন ও পথচারী চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।তাই আমরা চাই জনস্বার্থে সড়কটি মেরামত করে দেওয়া হউক। তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃবোরহান উদ্দিন জানান,উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি মেরামত করার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর খুব দ্রæত সময়ের মধ্যেই মেরামত কাজ শুরু করা হবে। তবেই আর কাউকে ভোগান্তি পোহাতে হবে না।