শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে ঘিরে গ্রুপিং চাঙ্গা


স্টাফ রিপোর্টার ::
জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। কমিটি বাগিয়ে নিতে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান অনুসারী ও আজিজুস সামাদ ডন অনুসারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এই দুই বলয়ের মধ্যে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে গ্রুপিং লবিং তীব্র হয়ে উঠছে। ২০০৫ সালে আবদুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর সাবেক সচিব এম এ মান্নান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে অংশ নিলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে আবদুস সামাদ আজাদের ছেলে আজিজুস সামাদকে ঘিরে বিভক্তি দেখা যায়। ২০০৮ সালে সাবেক সচিব এম এ মান্নান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেই থেকে দল দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। ২০১৪ সালে আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান এম এ মান্নান। তখন সামাদপুত্র আজিজুস সামাদ বিদ্রোহী প্রার্থী হন। নির্বাচনে জয়লাভ করে এম এ মান্নান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। আবারও নির্বাচিত হয়ে তিনি পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২১ সালে আজিজুস সামাদ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মনোনীত হন। এখনও সেই দুই বলয়ের বিভক্তি দৃশ্যমান। গেল রমজান মাসে ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে ডন অনুসারীরা সক্রিয় হয়ে ঐক্যবদ্ধতার জানান দিয়েছেন। বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে সংগঠিত হতে আয়োজন করেন ইফতার মাহফিল। আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যু বার্ষিকি পালন ও ইফতার মাহফিল করতে গিয়েও তারা বাঁধার মুখে পড়েন। শেষ পর্যন্ত বাঁধা উপেক্ষা করে উপজেলার নোয়াখালী বাজারে ইফতার মাহফিল পালিত হয়। সেখানে ডন অনুসারীদের ব্যাপক উপস্থিতিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ গ্রুপে অনেকেই পোড় খাওয়া আওয়ামীলীগের নেতা কর্মী। তাদের দলের একজন হেভিওয়েট পরিকল্পনামন্ত্রী থাকার পরও এরা মন্ত্রীর আশীর্বাদ পাননি। তুবুও টিকে আছেন দলে। তাদের ভরসা এখন আজিজুস সামাদ ডন। সম্মেলনে এসব ত্যাগীরা স্থান করে নিতে প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্ত রাজনৈতিক সচিব আবুল হাসনাতের নেতৃত্বে শান্তিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে শক্ত একটি ভিত্তি তৈরী হয়েছে। তারাও ইফতার মাহফিলসহ নানা আয়োজনের মাধ্যামে বলয়ের নেতা কর্মীদের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করছেন। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায় সহজেই নেতা কর্মীদের কাছে ভিড়াতে পারছেন। দুই বলয়ের মধ্যে গ্রুপিং থাকলেও এখনও পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়নি। তারা চান যেহেতু দলের পাশে থেকে উন্নয়ন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন সেহেতু দলের মুল পদপদবীতে ঠাঁই পাওয়ার ব্যাপারে অনেকটা আশাবাদী। জেলা মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ডের সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা ওবাদুর রহমান কুবাদ বলেন, আমরা অরজিনাল আওয়ামীলীগ আজ ঐক্যবদ্ধ। আমাদের গণজোয়ার দেখে একটা পক্ষ বিরোধিতা করছেন। ঐ পক্ষটা পুরাতন কমিটি বহাল রাখার পক্ষে মরিয়া হয়ে উঠছেন। পুরাতন কমিটি একটি গঠনতন্ত্র বিরোধী কমিটি। সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠিত হলে ত্যাগীরাই উঠে আসবে মুল পদপদবীতে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন,সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল মে মাসে। এখন পিছিয়ে জুনে হতে পারে। আমরা সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে দলের হাল ধরে উন্নয়ন কর্মকান্ডসহ দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। আশাকরি এসব নিবেদিত কর্মীরাই দলের মুল পদপদবীতে ঠাঁই পাবেন। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের শান্তিগঞ্জে উৎসব মুখর পরিবেশে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। যারা দলের বিদ্রোহী ছিলেন কিংবা সহযোগীতা করেছেন তারা মুল পদপদবীতে না আসার বিষয়ে আমরা সজাগ রয়েছি।