আজাদ হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের মানববন্ধন


স্টাফ রিপোর্টার::
হাওর আন্দোলন নেতা আজাদ হত্যা মামলা পিবিআইয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে মানববন্ধনের আয়োজন করে হাওর বাঁচাও আন্দোলন সদর উপজেলা কমিটি। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হাওর আন্দোলন নেতা আজাদ মিয়া হাওর দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বোচ্চার ছিলেন। হাওর দুর্নীতিবাজদের বিপক্ষে কথা বলতে গিয়ে রোষানলে পড়তে হয় তাকে। সংঘবদ্ধ এই চক্র প্রতিবাদী এই যুবককে নৃশংসভাবে হত্যা করে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল হক ও উকিল আলীর বিরুদ্ধে হত্যাকা-ে জড়িত হওয়ার প্রমাণ থাকলেও রহস্যজনক কারনে পুলিশের চার্জশীট থেকে বাদ পড়ে যায়। চাঞ্চল্যকর হত্যাকা-টি পুনরায় আমলে নিয়ে অধিকতর তদন্তে পিবিআইয়ে প্রেরণ করায় আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী চক্রদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। সদর উপজেলার হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি স্বপন দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহীদনূর আহমেদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্মল ভট্টাচার্য্য, জেলা কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার দাস, সদর উপজেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমীন, নিহত আজাদের ভাই আফরোজ রায়হান, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের নেতা জহির আহমদ সোহেল প্রমুখ। উল্লেখ্য ২০১৯ সালের ১৪ই মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার শিকার হন হাওর বাঁচাও আন্দোলন সুনামগঞ্জ সদর যুগ্ম আহ্বায়ক আজাদ মিয়া। সিলেট ওসমানী মেডিকেলে ৩দিন চিকিৎসার পর ১৭ মার্চ তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান নুরুলহক, উকিল আলী, পাভেল, রিপনসহ অজ্ঞাত আরো ৭/৮ জনকে আসামি করে ১৮ মার্চ সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বড় ভাই আজিজ মিয়া। ঘটনার দিনই আসামি উকিল আলীকে ধরতে সক্ষম হয় পুলিশ। আজাদ মিয়া হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ব্যানারে লাগাতার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য রাজপথ থেকে আল্টিমেটাম দেয় সংগঠনটি। ৭ দিনের মাথায় পুলিশ শ্রাবণ নামের একজন ভাড়াটে খুনিকে ধরতে সক্ষম হয়। তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক একটি জবানবন্দিও নেয় পুলিশ । দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আসেন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক। নিম্ন আদালতের রায়ে তাকে আবার জেলে যেতে হয়। বাকি আসামিদেরও জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন আদালত। বর্তমানে মামলার সকল আসামি জামিনে রয়েছেন। ৮ নভেম্বর মামলাটি অধিকতর তদন্তেন জন্য পিবিআইয়ে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন দায়রাজজ আদালত।