জগন্নাথপুরে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০, দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার ১৪


জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
জগন্নাথপুরে রাতের আঁধারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ সহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র সহ উভয় পক্ষের ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে জগন্নাথপুর পৌর এলাকার ইসহাকপুর গ্রামে। এ নিয়ে এলাকায় থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে। জানাগেছে, গত কয়েক মাস ধরে ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটিতে নাম রাখা ও না রাখা নিয়ে গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী উস্তার গণি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল ইসলাম পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার তাদের মধ্যে উত্তেজনা হলেও থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অবশেষে ১ নভেম্বর রাত প্রায় সাড়ে ১০ টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরণের দেশীয় অস্ত্র ও ঢাল নিয়ে রণসাজে সজ্জিত হয়ে উভয় পক্ষের অসংখ্য লোক সঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে বিপুল পরিমাণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন। এর মধ্যে সংঘর্ষে নোমান আহমদ, আবদুস সালাম, শমসের উদ্দিন, জাকির আহমদ, নুর আলম, ইউনুছ মিয়া, জুবেল আহমদ সহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষে ১০/১২ রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে ও আহত আবদুস সালাম ও শমসের উদ্দিন বন্দুকের গুলিবিদ্ধ বলে বদরুল ইসলাম পক্ষের শাহ নিজামুল করিম জানান। গুলিবিদ্ধ সহ ৩ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আহতদের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে প্রবাসী উস্তার গণি পক্ষে সাবেক পৌর কাউন্সিলর খলিলুর রহমান জানান, সংঘর্ষে তাদের পক্ষে ২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের অভিযানে ৫টি সুলফি, ৩৯টি সুপারি গাছের শলা, ১টি ত্রিশুল, ৬টি লাঠি ও ৩টি ঢাল সহ উভয় পক্ষের আহত সহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নুর আলম, ফরুক আহমদ, সুজন মিয়া, আলীনুর, শাহ আলম, জাকির আহমদ, সিজিল উল্লাহ, আংগুর মিয়া, হেলাল মিয়া, রুবেল মিয়া, নজরুল ইসলাম, মনর আলী, সফু মিয়া ও আবদুল আউয়াল। সংঘর্ষ ও গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার এসআই আবদুস ছত্তার জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীদের গতকাল মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সংঘর্ষে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।