নানা সমস্যায় জর্জরিত দোয়ারার বাজিতপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র


দোয়ারাবাজার প্রতিনিধিঃ
দোয়ারাবাজার উপজেলার বাজিতপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পরেছে। এক সময় এটাই ছিল উপজেলার ৪ লক্ষাধিক লোকের একমাত্র চিকিৎসার আশ্রয়স্থল। বাজিতপুর উপস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা কারণে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। লোকবল ও স্টাফ সংকটে রয়েছে বাজিতপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। দীর্ঘদিন যাব নেই, এম এল এস এস বা (পিয়ন)পদ, নিরাপত্তা প্রহরী, আয়া বা পরিস্কার কর্মী, ফার্মাসিষ্ট মেডিকেল অফিসার পদে লোকবল না থাকায় খুড়িয়ে চলছে বাজিতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবা। গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে রয়েছে একটি মাত্র পদে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারডা. এস এম সফিকুল ইসলাম তার সহযোগিতা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা ব্যবস্থা ফিরে আসলেও তার একার পক্ষে যাবতীয় কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে মদ জোয়ার পাশাপাশি বহিরাগতদের উৎপাত দিনদিন বেড়ে অরাজকতা পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। পরিছন্নতা কর্মী (আয়া) না থাকার ফলে চার পাশে অসংখ্য ময়লা আবর্জনায় ভরে আছে চারপাশ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চার পাশের ময়লা আবর্জনার কারণে মনে হয় ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সটিতে। তবে জনবল সংকটের কারণে এসব হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানান। এখানে একাধিক পরিছন্ন কর্মী থাকার কথা থাকলে ও আজ পর্যন্ত এই পদে কোন লোক নিয়োগ হয়নি। যার ফলে প্রায় সময় চার পাশে ময়লা আবর্জনা লেগেই আছে। নলক‚পে পর্যাপ্ত পানি না উঠায় রোগীদের পানীয় জলের সমস্যায় ও রয়েছে। তাছাড়া রুমের ভিতরে অবস্থিত বাথরুমগুলো অনেকটা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লাইট ফ্যান বন্ধের কারণে চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাউন্ডারির পাশে একটি গাছ বিদ্যুৎ লাইনে ঝুলে থাকায় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। তাই কতৃপক্ষ গাছটি দ্রæততম সময়ে কাটার ব্যবস্থা করতে হবে। স্থানীয়দের দাবী একসময় এই হাসপাতালে চিকিৎসার কমতি ছিল না। উপজেলা সদর হাসপাতাল হওয়ার পর থেকে বাজিতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বন্ধ হওয়ার পথে। তাই দ্রæততম সময়ের মধ্যে পুনরায় ডাক্তার নিয়োগের সাথে সকল প্রকার চিকিৎসা সেবার জন্য বাজিতপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি তৈরী করা প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্ধা আলী আমজদ বলেন, একজন ডাক্তার দিয়ে হাসপাতাল চলেনা। অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে এসে, ডাক্তার না পেয়ে ফেরত চলে যায়। তাই লোকবল নিয়োগের পাশাপাশি চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন করা প্রয়োজন। এব্যাপারে দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ডা. এস এম সফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এখানে আসার পর থেকে মানুষের স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে কাজ করছি। নানা সমস্যায় জর্জড়িত বাজিতপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে লোকবল সংকটের সাথে রয়েছে, আসবাবপত্র সংকট ও যেমন, চেয়ার টেবিল, ঔষধের আলমিরা ও যন্ত্রপাতি না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সেবা বঞ্চিত রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, লোকবল সংকটের বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়ে। বিদ্যুৎতের লাইনে গাছ ঝুলে থাকার বিষয়টি জানা ছিলনা, এই বিষয়টিও আলোচনা করে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।