সর্বদলীয় স্মপ্রীতি উদ্যোগ কথা রাখলেন ঝুমন দাস


স্টাফ রিপোর্টার::
হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হক গত ১৫ মার্চ দিরাই উপজেলা শহরে এক সমাবেশে বক্তব্য দেন। মামুনুল হকের ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে ঝুমন দাশ পরদিন ১৬ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ গ্রামবাসী তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ১৭ মার্চ সকালে নোয়াগাঁওয়ে আশপাশের তিনটি গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে মানুষের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ৬ মাস ১২ দিন কারাবাসের পর কারাগার থেকে বের হয়েই ঝুমন দাশ মুক্তি পেয়েছেন। ঝুমন দাশ ও তার পরিবারের লোকদের সাথে দেখা করতে গত মঙ্গলবার সর্বদলীয় স¤প্রীতি উদ্যোগ জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ নোয়াগাঁও গ্রামে যান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন, সর্বদলীয় স¤প্রীতি উদ্যোগ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির উপদেষ্টা জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হক আফিন্দি, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিরাজ-উ-দৌল্লা, সর্বদলীয় স¤প্রীতি উদ্যোগ জেলা কমিটির সমন্বয়কারী সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক জামালগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি মিসবাহ উদ্দিন, সহসমন্বয়কারী, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম স¤পাদক মোর্শেদ মিয়া, নির্বাহী সদস্য দিরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি সামছুল ইসলাম সরদার, শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া। সর্বদলীয় স¤প্রীতি উদ্যোগ এর পক্ষ থেকে ঝুমনকে আহ্বান জানানো হয় সে যাতে এমন কিছু ভাল উদ্যোগ গ্রহণ করে যার জন্য সে আবারও সংবাদের শিরোনাম হবে। নেতাদের সে কথা রাখলেন ঝুমন। জেলমুক্ত হয়ে ঝুমন দাস জানতে পারেন দিরাই কলেজের ছাত্র রনি দাস লিম্ফোমা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার চিকিৎসা ব্যায় পরিবারের
পক্ষে একা বহন করার সামর্থ না থাকায় সমাজের বিত্তবানদের আহ্বান জানানো হয় চিকিৎসায় সহায়তার জন্য। সে সুযোগে ঝুমন নেমে পড়ের রনির চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে। বিত্তবানদের রনির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ঝুমন নিজেই সাহায্যের বক্স নিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামান্তর, হাট-বাজারে টাকা সংগ্রহ করছেন রনির জন্য। ঝুমন দাস জানান, মানুষ মানুষের জন্য এ কথাটা বুঝতে পারছি আমি জেলে যাওয়ার পর। আমি একজন সাধারণ মানুষ। আমার মুক্তির জন্য দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা পত্রিকা বিবৃতি দিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন হয়েছে। সবার সগযোগিতায় আমি জামিনে জেলমুক্ত হয়েছি। এখন মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। মানুষের বিপদে নিজের সামর্থ অনুযায়ী পাশে দাড়াতে চাই। আমরা সবাই মিলে একটি অসা¤প্রদায়িক দেশ গড়তে চাই। সে যাত্রায় ঝুমন আবরো সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।