শাল্লায় প্রাণিস¤পদ অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারির মারামারি, অফিস তালাবদ্ধ


শাল্লা প্রতিনিধি::
শাল্লায় উপজেলা প্রাণিস¤পদ কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটেছে। এসময় অফিসের ক¤িপউটার ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার অফিস তালাবদ্ধ ছিল। এতে সেবা নিতে আসা মানুষ ভোগান্তিতে পরে। তাছাড়া সরকারি বিভিন্ন ঔষধ (ভ্যাকসিনসহ) এক কর্মচারীরমাধ্যমে বাইরে পাচারেরও অভিযোগ উঠছে। স্থানীয় ও অফিস সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলাপ্রাণীস¤পদ কর্মকর্তা ডাঃ তপন কুমার পাল ও মাঠ কর্মী রুবেল দাসের সাথে অপর কর্মচারী ধনবিকাশ ত্রিপুরার মারামারির ঘটনা ঘটে। ধনবিকাশ ত্রিপুরা জানান তার তিন মাসের বেতন আটকা পড়েছে। একমাস পর ডাঃ তপনকুমার পাল অফিসে আসেন, এসময় তিনি বেতন চাইলে তার কাছে উৎকোচ দাবি করেন ডাঃ তপন কুমার পাল। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তার দিকে তেরে আসনেবিএফ রুবেল দাস ও ডা: তপন কুমার পাল। এসময় তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে অফিস প্রধান ডা: তপন কুমার পাল তার অধীনস্থ কর্মচারী রুবেল দাসেরকাছে অফিসের চাবি দিয়ে সিলেটে চলে যান। এরপর থেকেই ওই অফিস তালাবদ্ধ রয়েছে। বুধবার ও বৃহ¯পতিবার বেলা ১১টায় শাল্লা উপজেলা প্রাণিস¤পদ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের মূল ফটক তালাবদ্ধ। অফিসে ঢুকতে পারেননি অন্যান কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। সেবা নিতে আসা হাসপাতালের সামনে দাড়ানো লোকজনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমরা এসেছি আমাদের পোষাপ্রাণির চিকিৎসা পরামর্শের জন্য। কিন্তু কোনো লোক না পেয়ে আমরা বিপদে আছি। তারা আরো বলেন, অফিসের রুবেল দাস, ধনবিকাশ ত্রিপুরা ওডা: তপন কুমার পালের মধ্যে গত মঙ্গলবার মারামারির ঘটনায় অফিস বন্ধ রয়েছে। ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের বাবলু সরকার বলেন, আমি সকালে এসেছিলাম, কিন্তুকাউকে পাইনি, অফিস তালাবদ্ধ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ওই হাসপাতলের পশু ডাক্তার বছরে দুই-এক দিন আসেন। বাকি সময় কোথায় থাকেন জানি না। অপরদিকে উপজেলার অনেক খামারি তাদের খামারে পালিত পশু ও হাঁস-মুরগীরভ্যাকসিন দিতে হলে ওই হাসপাতালের কর্মচারী রুবেল দাসের কাছ থেকেই ঔষধ ও ভ্যাকসিন কিনতে হয় বলেও জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক খামারি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, মঙ্গলবার ৬অক্টোবর সকাল ১০টায় বিএফ রুবেল দাস ব্যাগভর্তি সরকারি ভ্যাকসিন নিয়ে অফিস থেকে বের হন। অল্পকিছুক্ষণ পরেই খালি হাতে তিনি অফিসে ফিরে আসেন। এবিষয়ে বিএফ রুবেল দাসের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি মার্কুলীগ্রামের খামারি হাদিম মিয়ার হাঁসের খামারে দিতে ভ্যাকসিনগুলো বের করেছি। তাকে ফোন করতে পারেন। পরে মার্কুলী গ্রামের খামারি হাদিম মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি রুবেল দাসকে ভ্যাকসিনের কথাবলেছিলাম। কিন্তু ভ্যাকসিন এখনো পাইনি। আবার বিএফ রুবেল দাসের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ভ্যাকসিনগুলো বাহাড়ারএক দাদার কাছে রেখে দিয়েছি, আমি সুনামগঞ্জ চলে যাবো, হাদিম মিয়া এসে নিয়েযাবেন। কিন্তু হামিদ মিয়া জানান, রুবেল কার কাছে ভ্যাকসিন রেখেছে আমিজানি না, রবিবারে এসে ভ্যাকসিন নিবেন বলেও জানান তিনি। অফিসের গোপন সূত্রে জানা যায়, ডা: তপন কুমার পাল সত্যিই দুই-তিন মাস পরপর আসেন।এব্যাপারে উপজেলা ভ্যাটিরিনারী সার্জন ডা: তপন কুমার পালের সাথে মুঠোফোনেকথা হলে তিনি বলেন, না-না, অফিস তালাবদ্ধ থাকবে কেন ? আপনি যান, গিয়েদেখতে পারেন। মারামারির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরেকয়েক বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।