জামালগঞ্জে এমদাদুল হক আফিন্দীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ


স্টাফ রিপোর্টারঃ
জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা এমদাদুল হক সহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে নৌযানে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদাবাজির এই অভিযোগ তুলেছেন উপজেলার রক্তি নদীতে চলাচলকারী নৌযান শ্রমিকরা। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা আদায়ের কোনও প্রকার বৈধতা না থাকারও পরও পেশি শক্তির জোরে খালি নৌযান থেকে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা করে জোরপূর্বক আদায় করছেন এমদাদ আফিন্দীসহ একটি প্রভাবশালী চক্র। বিগত এক সপ্তাহ ধরে এমন চাঁদাবাজি চলমান বলে জানান ভুক্তভোগীরা। গত বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে চাঁদাবাজির শিকার নৌযান শ্রমিকরা জানান, সুরমা এবং রক্তি নদী দিয়ে চলাচলকারী বালু ও পাথরের খালি নৌযান, চলন্তবস্থায় নৌযান, বোঝাই নৌযান থেকে ছোট ট্রলারে করে এমদাদুল হক আফিন্দীর নেতৃত্বে নৌকা প্রতি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন স্থানীয় যুবক মোঃশাহজাহান মিয়া, মোঃআব্দুল মিনহাজ আফিন্দী, সালেহ আহমদ আফিন্দী, আব্দুর রহিম, জয়নুল হক প্রমুখ। চাঁদা না দিলে নৌযান শ্রমিকদের মারধর করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। রোমেনা ১নামক বাল্কহেড নৌকার মাঝি আবুল কালাম বলেন, রক্তিনদীর মোহনায় সেতুর কাছে ছোট একটি ট্রলারে করে এসে ৫-৬ জন যুবক দেশীয় অস্ত্র হাতে নৌকার গতিরোধ করে। এমদাদুল হকের কথা বলে চাঁদা দাবি করেন তারা। রসিদ ছাড়া চাঁদা দিতে রাজী না হওয়ায় চাঁদাবাজরা আমাকে মারধর করতে থাকে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয় । জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে তাদেরকে দুই হাজার টাকা চাঁদা দেই। তারা বলে, আমরা হাজী এমদাদুল হকের লোক। এমদাদুল হক আমার সাথে ফোনে কথাও বলেন। রক্তি নদী থেকে বের হয়ে ভৈরবের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে জামালগন্জের সাচনাবাজার ইউনিয়নের দূর্লভপুর গ্রামের সামনে সুরমা নদীতে শারীরীক হামলা ও চাঁদাবাজীর শিকার হন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের সুমনা নৌপরিবহনে থাকা ব্যবসায়ী জিয়াউল হক। তিনি বলেন, রসিদ দিয়ে টাকা নেয়ার কথা বললে চাঁদাবাজরা আমার নৌপরিবহনে থাকা তিনজনকে বেদম প্রহার করে। তারা বলে এই কিলঘুষিই হচ্ছে রসিদ । এমদাদুল হক আফিন্দীর টাকা নিতে কোন রশিদ লাগে না। আমাদের কাছ থেকে দেড় হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে যায় সশস্ত্র যুবকরা। রক্তি নদীর ইজারাদার ওয়াহেদ আলী বলেন, এমদাদুল হক তার দলবল নিয়ে নদীতে এসে নৌযান থেকে দেড় দুই হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করেছেন। আমি বিষয়টি প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি, লিখিতভাবেও জানাব। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে এমদাদুল হক আফিন্দী বলেন, আমি ব্যাক্তিগতভাবে নয়, বিআইডব্লিউটিএর নামে কালেকশন করে যাচ্ছি । নয়াহালট গ্রামের হাসান মাহমুদ ওরফে হাছিন মিয়া হচ্ছেন বিআইডব্লিউটিএর প্রকৃত ইজারাদার আমি তার ব্যবসায়ী অংশীদার মাত্র । প্রতিফুট ২৫ পয়সা হারে সাচনাবাজার থেকে নোয়াগাও বাজার পর্যন্ত বালুপাথর লোড আনলোডের বার্দিং চার্জ যথানিয়মে আদায় করেন বলে স্বীকার করেন বিএনপি নেতা এমদাদুল হক আফিন্দী। এদিকে হাসান মাহমুদ আরো বলেন, এমদাদুল হক আফিন্দী আমার ভাগীদার হওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি তাকে আমরা ইজারা অংশীদার নিয়োগ করিনি। এমদাদুল হক আফিন্দী ও তার লোকজন বিনা রশিদে বেআইনীভাবে চাঁদা উত্তোলন করে যাচ্ছে। এর দায়িত্ব তার উপরেই বর্তাবে । নৌপুলিশ রাকিবুল হাসান বলেন, আমরা নৌপথে চাঁদাবাজী বন্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছি। আমরা এখনও এব্যাপারে কোন অভিযোগ পাইনি অভিযোগ পেলে চাঁদাবাজী বন্ধে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করব। জামালগন্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল আলম বলেন , আমরা নদীতে পুলিশ মোতায়েন করে চাঁদাবাজদের বিরদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। নদীতে কেউ চাঁদাবাজি করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে আমাদের বলতে হবে। তিনি কাউকে ধরে দিতে বললে আমরা পুলিশ প্রশাসন সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।