পিডিবির প্রকৌশলীর দুনীতির শেষ কোথায় ? ছাতকে প্রিপ্রেইড মিটারের ৫২ লাখ টাকার বকেয়া বিল, মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্ন


ছাতক প্রতিনিধি,
ছাতক বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রিপ্রেইড মিটার নিয়ে নতুন হয়রানি শুরু করেছে খোদ নিবাহী প্রকৌশলী আব্দুল আল মামুন সরদার,প্রকৌশলী মামুদুর হাসান উপ সহকারী প্রকৌশলী আবুল হোসেন ও ফজলে রাবির বিরুদ্ধে । মিটার লক করে দিয়ে গ্রাহককে অন্ধকারে রেখেই হয়রানির নতুন কৌশল চালু করা হচ্ছে বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন। তারা দালাল ব্যক্তিদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পিডিবির প্রকৌশলীরা বিদ্যুৎ প্রিপ্রেইড মিটারে লক ও লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো ঘটনা ঘটিয়েও পার পেয়ে যাচ্ছেন প্রকৌশলীরা । এসব অনিয়ম দুনীতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে তবু ও দেখার কেউ নেই। দোয়ারাবাজার উপজেলার অটোমিল মিলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ি জহির মিয়া বাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগে গত জানুয়ারি মাসে গভীর রাতে দোয়ারবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের অটো রাইস মিলের বিদ্যুৎ প্রিপ্রেইড মিটার লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কাউকে না বলে চুরি করে ছাতক বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগ ছাতকস্থ অফিসে নিয়ে আসে । প্রিপ্রেইড মিটারে নামে আগের বিদ্যুৎ বিল ৫২ লাখ টাকার বকেয়া রয়েছে। এই কথা শুনে জহির মিয়া নামে একজন গ্রাহকের স্ট্রোক করার উপক্রম হয়েছিল। পিডিবির কোন বিলের কাগজ ছাড়াই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ৩ জন প্রকৌশলীরা। তার রাইস মিলের মিটার রাতেই আধারে চুরি করে মিটার কেটে অফিসে আটকিয়ে বকেয়া বিল ৫২ লাখ টাকার। এসব টাকা না দিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে তার সঙ্গে পিডিবির নিবাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন সরদার,প্রকৌশলী মামুদুর হাসান, উপ সহকারি প্রকৌশলী আবুল হোসেনের সাথে পিডিবি অফিসে বসে ব্যবসায়ি জহির মিয়ার সাথে অলিখিত একটি চুক্তির মাধ্যমে ১৭লাখ টাকার বিনিময়ে তার মামলাটি নিস্পতি করেন তিন প্রকৌশলীরা। এ গ্রাহকের জরিমানা টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে তাদের পকেট নেন। তারা গ্রাহকের কাছ থেকে পিডিবি ছাতক অফিসে বসে ১৭লাখ টাকার তাদের সঙ্গে লেনদেন করেন গ্রাহক নিজেই। তার কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা জরিমানা নিয়ে ব্যাংকে জমা না দেয়ার ঘটনায় সারা জেলা জুড়েই ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে। এসব টাকার কোন হদিস মিলছে না অফিসে। এ টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে কর্মকতা ও কর্মচারিদের মধ্যে ২ভাগে বিভত্ত হয়। ঘুষের টাকার ভাগ নিয়ে যেকোনো সময় মারামারি আংশকা বিরাজ করছে। কর্মরত ৩জন প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন অধিকাংশ গ্রাহকরা। শুধু তাই নয়, আব্দুল মমিন,ও মোস্তাফিজুর রহমান হচ্ছেন লাইনম্যানের সাহাষ্যকারির তারা ভুয়া নাম দিয়ে পৌরশহরের মোগলপাড়া,মল্ডিলী ভোগ,চরেবন্দের,ভাসখলা,কুমনা,এলাকার মিটার রিটিং বিল তৈরি পদে দুই জন মাসে পর মাসও ভুয়া দিয়ে বেতনভাতা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অফিস পিয়ন আক্তার হোসেন বিদ্যুৎ বিতরন বিভাগের কন্টল রুমে প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন দুই যুগ ধরেই। ছাতক উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ থাকলেও সাড়ে ২২ হাজার গ্রাহকরা টু শব্দ করছে না সংযোগ বিচ্ছিন্নের আতঙ্কে।প্রশ্ন উঠেছে, প্রিপ্রেইড মিটারে বকেয়া বিলের অভিযোগ তুলে দালাল চক্র ব্যক্তিদের সুবিধা দিতে গিয়ে গ্রাহকদের হয়রানি করার মতো প্রতিনিয়ত ঘটনা ঘটছে ছাতক, দোয়ারবাজার ও বিশ্বনাথের গ্রাহকরা। ফলে অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। তবে দফতরে ধরনা দিলেই ল্যাপটপ থেকেই সার্ভারের লক খুলে দেয়ার মতো ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়রানি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অফিস প্রিপ্রেইড মিটারে ১৮হাজার ৩শদগ্রাহকের অফিসের সবত্র গোপন নম্বার তিন প্রকৌশলীর প্রাইভেট সেক্সেটারি স্থানীয় পৌর শহরের চিহিৃত দালাল জাকির নামে ব্যক্তিদের ল্যাবটবে রয়েছেন বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করেন। প্রিপ্রেইড মিটারে লক আন লকের ছাতক উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগ অফিসে উস্তাদ হচ্ছে জাকির । হাজার হাজার মিটার গ্রাহকদের নামে লাখ লাখ টাকার বকেয়া জরিমানা বিলের টাকা ব্যাংক জমা না দিয়ে পকেট ভারি করছেন তারা। এসব টাকা নেয়ার সময় ৩ জন প্রকৌশলী মিলে বকেয়া বিল মিটার গ্রাহকদের কাছ থেকে কৌশলে সাদা কাগজে মামলার ভয় দেখিয়ে স্বাক্ষর নিচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। এখানে সরকারি মিটার গ্রাহকদের ফ্রি দেয়ার কথা থাকলে প্রতিটি মিটার ফিসের নামে ৩ হাজার থেকে ৪হাজার টাকা পযন্ত গ্রাহক কাছ থেকে আদায় করেছেন ৩ প্রকৌশলীরা । ২০১৯ সালে বরাদ্ধকৃত মিটার ২০২১ সালে গ্রাহকদের নামে রেজিষ্টার করে দেয়া হচ্ছে। গ্রাহকরা টাকা না দিলে অফিসে মিটার নেই। নগদ টাকা দিলে রাতারাতি মিটার মিলছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। এ অফিসে টাকা ছাড়া কোন সেবা মিলছে না। আগে টাকা পরে কাজ এ ভাবে চলছে ছাতক পিডিপির অফিস দুনীতির আখড়ায় পরিনত হচ্ছে। এ অফিসে মুজিবুর রহমান,জাকিরসহ অধশতাধিক দালালদের মাধ্যমে বকেয়া বিলের নামে ভুয়া বিল দিয়ে লাখ লাখ টাকা জরিমান করে তাদের পকেট ভারি করছেন। এ ব্যাপারে উন্নয়ন ও বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন সরদার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন.প্রিপ্রেইড মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ৫২ লাখ টাকার কি ভাবে আসলো ? এসব প্রশ্ন প্রকৌশলী হাসান ও উপ সহকারি প্রকৌশলী আবুল হোসেন গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন। আমি বলতে পারবো না বলে মোবাইল কেটে দেন। প্রকৌশলী মামুদুর হাসান মোবাইল ফোনে রাতে আধারে প্রিপ্রেইড মিটারে লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কিভাবে ৫২ লাখ টাকার বকেয়া বিল এসেছে এ প্রশ্ন করার তিনি মোবাইলটি কেটে দেন। উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল হোসেনকে জহির মিয়া প্রিপ্রেইড মিটারে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেলে ও তার মিটার কেটে কি ভাবে প্রিপ্রেইড মিটারে ৫২ লাখ টাকা বকেয়া বিল কি ভাবে আসলো এ প্রশ্ন করলে তিনি এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে বলেন তার সঙ্গে দেখা করলে উত্তর দেবেন।