তাহিরপুরের সৌন্দর্য্য দেখতে ভ্রমণ পিপাসুদের ভীড়


কামাল হোসেন::
বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) সংক্রমণের কারণে সরকারি বিধিনিষেধের কারণে তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন ¯পটগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ১৯ আগস্ট বৃহ¯পতিবার থেকে আবারও খুলেছে তাহিরপুরের সকল পর্যটন ¯পটের দুয়ার। এ খবরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে ভ্রমণ পিপাসুরা আসতে শুরু করেছেন পাহাড়ি-নদী ও হাওর ঘেরা সীমান্ত এ জনপদ তাহিরপুরে। এর ফলে তাহিরপুর উপজেলার সকল পর্যটন ¯পটগুলোতে সপ্তাহ খানেক ধরে পর্যটকদের উপস্থিতি যেন চোখে পড়ার মতো । আবারও যদি অতীতের ন্যায় পর্যটকদের ভ্রমণে সরকারি বিধিনিষেধ না থাকে তবে ধীরে ধীরে এ সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশাবাদী স্থানীয়দের । তবে তাহিরপুরে পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাই নেই । মানা হচ্ছেনা কোনরূপ স্বাস্থ্যবিধি। তবে পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মাক্স পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে করা হচ্ছে মাইকিং। এবং না মানার কারণে পর্যটকদের করা হচ্ছে অর্থদন্ড। এমনকি টাক্সগুয়ার হাওর সহ তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন ¯পটে পর্যটকদের যেতে হলে উপজেলা প্রশাসনের বেঁধে দেয়া হয় ১০ নির্দেশানা। ঢাকা থেকে টাক্সগুয়ার হাওরে ঘুরতে আসা গণমাধ্যমকর্মী মো: আরিফুর রহমান সেতু বলেন, করোনাভাইরাস আর সরকারি বিধিনিষেধ থাকার কারণে আমরা দীর্ঘদিন গৃহবন্দি ছিলাম। দীর্ঘদিন ঘরের মাঝে বন্দী থাকার কারণে দেহ মন সবকিছুই যেন নি®প্রাণ নি®প্রাণ হয়ে গেছে। তাই দেহমন দুটোই ঝালিয়ে নিতে পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে এখানে চলে এলাম টাক্সগুয়ার হাওরে । সত্যিই কথায় যেমন রূপেও তেমন এই টাক্সগুয়ার হাওর। শুধু টাক্সগুয়ার হাওরেই নয়! ট্যাকেরঘাটের নীলাদ্রি লেক, যাদুকাটা নদী, বারেক টিলা, এশিয়া বৃহৎ শিমুল বাগান সবগুলোই অপরূপ সৌন্দর্য্যে ভরপুর। এযেন সৃষ্টিকর্থা তার নিজের হাতে সাজিয়ে রেখেছেন। এখানে যে একবার আসবে তাহিরপুরের রূপ সৌন্দর্য্যে দেখতে বারবার আসার ইচ্ছে জাগবে। তাহিরপুরে পর্যটন ¯পটগুলোর রূপ সৌন্দর্য্যে দেখে উচ্ছ্বাসিত এ পর্যটক বলেন, অনেকদিন পরে হলেও ঘর থেকে বের হয়ে স্বস্তি পেলাম। দেহ-মনের ক্লান্তিও দূর হয়ে গেলো। তাহিরপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের কাছে যেন মায়াবী হাতছানি। পর্যটন মৌসুম ছাড়াও এসব এলাকায় দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পর্যটক ঘুরে বেড়ান সারা বছর।,পাহাড়-নদী, হাওর, লেক, টিলা আর মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঝর্ণায় ঘেরা এই তাহিরপুর। এ যে রূপের ডালা সাজিয়ে পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। তাহিরপুরের পর্যটন ¯পটগুলো সৌন্দর্য্য দেখে আনন্দের পাশাপাশি অপরূপ প্রকৃতি অবলোকন করবে পর্যটকেরা। এ দিকে সুনামগঞ্জের পর্যটনে ব্যাপক অগ্রগতির লক্ষ্যে গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন পর্যটন ¯পট ট্যাকেরঘাটে দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট নির্মাণের নির্ধারিত জায়গা পরিদর্শনে আসেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোকাম্মেল হোসেন, বাংলাদেশ সরকারের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব মোছাঃ আছিয়া খাতুন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সচিব প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাভেদ আহমেদ, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোঃ হান্নান মিয়া, জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরীর বাবুল বলেন,মৎস-পাথর-ধান সুনামগঞ্জের প্রাণ। জেলার জন্য এ কথাটি সত্যি হলেও এর সাথে আরেকটি কথা সৌন্দর্য্য যুক্ত না করলে নাই হয়। সৌন্দর্য্যের দিক দিয়ে দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে আমার মতে সুনামগঞ্জ সবচেয়ে সুন্দর। আর এই সৌন্দর্য্যের সবটুকুই তাহিরপুরকে ঘিরে। করোনার কারণে পর্যটন ¯পটগুলোতে মানুষের পদচারণা না থাকায় এখন প্রকৃতি তার নিজেস্ব রূপে ফিরে এসে যেন রূপের পসরা সাজিয়ে তার রূপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। তাহিরপুরের পর্যটন বিকাশে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ দিয়েছেন। পর্যটন ¯পটগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রায়হান কবির বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে লকডাউন শিথিল করা হলেও মাস্ক পড়া এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা অব্যাহত রয়েছে। তাই গত (২১ আগষ্ট শনিবার) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মাক্স পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে তাহিরপুরের বিভিন্ন পর্যটন ¯পটে ও নৌঘাটে এ বিষয়ে মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচারণা চালানো ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাধ্যমে মুখে মাক্স না থাকায় ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় জরিমানাও আদায় করা হচ্ছে । স্বাস্থ্য বিধি প্রতিপালনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে ।