শাল্লায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার স্বপ্নের নীড়ে ৪০হাজার টাকা উৎকোচের অভিযোগ


শাল্লা প্রতিনিধি-
প্রধানমন্ত্রী মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে সকলের আশ্রয়ন নিশ্চিতে চলতি বছরে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে মাধ্যমে সারাদেশে ৭০হাজার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে ‘স্বপ্নের নীড়’ বাড়ি উপহার দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় এবছর ১হাজার ৪শ’ ৩৫টি ‘স্বপ্নের নীড়’ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া ‘স্বপ্নের নীড়’ পেতে ইউপি চেয়ারম্যানকে নগদ টাকা উৎকোচ দেয়ার অভিযোগ উঠছে সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কামেম আজাদের বিরুদ্ধে। তবে চেয়ারম্যান আবুল কাশেম আজাদ তা বরাবর অস্বীকার করে আসছেন। আটগাঁও ইউনিয়নের শশারকান্দা গ্রামের ভূমিহীন কৃষক হারিছ মিয়া ওরফে সাদ্দাম মিয়া প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১টি ঘর পেতে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম আজাদকে ৪০হাজার টাকা উৎকোচ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠছে। হারিছ মিয়া ওরফে সাদ্দাম হোসেন বলেন আমি গরীব মানুষ, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাব আমাকে খবর পাঠায় সরকারি ঘর আইছ, তার সাথে দেখা করতে। আমি দেখা করলে চেয়ারম্যান সাব বলেন ৩লক্ষ টাকার ঘর পেতে হলে আমাকে ৪০হাজার টাকা দিতে হবে। আমি বললাম গরীব মানুষ এতো টাকা কোথায় পাব ? চেয়ারম্যান সাব বললেন যেভাবে পারো ম্যানেজ করো। আমি বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে নিয়ে একটি দালান ঘরের জন্য স্থানীয় মহজনের নিকট থেকে মুনাফার শর্তে ৪০ হাজার টাকা কর্জ করে চেয়ারম্যান সাবের বাড়িতে দিয়ে আসি। ওইসময় চেয়ারম্যান সাব বলেন বিষয়টি আমি যেন কোনো নেতা বা সাংবাদিক অথবা কোন অফিসারকে না বলি। আমার গ্রামের গাংপাড় হাটিতে ১২টির মত ঘর আসে। তারা কতো টাকা চেয়ারম্যানকে দিয়েছে বললে উত্তরে তারা বলেন এক টাকাও না। তারা আরো বলেন আওয়ামী লীগের আটগাঁও ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মামুন আল কাওসার আমাদের ঘর পাইয়ে দিছে এক টাকাও লাগেনি। তখন বিষয়টি আমার মাথায় ধরে। তাহলে চেয়ারম্যান কেনো আমার কাছ থেকে টাকা নিল। বিষয়টি গ্রামের অনেকের কাছেই বলি এবং বার বার চেয়ারম্যানের কাছে যাই। কিন্তু চেয়ারম্যান সাব আমাকে কোন পাত্তা না দিয়ে উল্টো আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। এখন আমি বিপদে আছি ৪০হাজার টাকা মুনাফসহ মহাজনকে ৬০হাজার টাকা দিতে হবে। টাকা পাওনাদারকে কিভাবে টাকা দিবো বুঝতে পারছিনা। মহাজনের টাকা দিতে হয় আমাকে বাড়িঘর ফেলে রাতের আঁধারে কোথাও চলে যেতে হবে, না হয় চেয়ারম্যান সাবের বাড়িতে ফাঁস লাগাতে হবে। এমন অবস্থায় আমি আছি। বিষয়টি নিয়ে শশারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আবু সালামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ঘটনাটি অনেক আগেই শুনেছি, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক ও ন্যাক্কাড়জনক। তিনি আরো বলেন, আমাদের আটগাঁও ইউনিয়নে অনিয়ম দুর্নীতির শেষ নেই। ভিজিএফ কার্ড থেকে শুরু করে বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা এমনকি প্রতিবন্ধী ভাতা পেতেও চেয়ারম্যান মেম্বারদের টাকা দিতে হয়। টাকা ছাড়া কোনো কাজই হয় না। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো এই চক্রটি সাধারণ মানুষদের এমন ভাবে জিম্মি করে রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ লিখিত কিংবা মৌখিক অভিযোগ করতেও ভয় পচ্ছে। সেবাপ্রার্থীরাও ভয়ে মূখ খুলে না। তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার ভয়ে। এসব সিন্ডিকেট থেকে সমাজকে মুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সামাজিক উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এসব অনিয়ম রোধ করা কিছুটা হলেও সম্ভব। সেইসাথে তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে আমি চাচ্ছি ভূক্তভোগী হারিছ মিয়ার ৪০হাজার টাকা যা সুদে-আসলে ৬০হাজার টাকায় দাড়িয়েছে তা চেয়ারম্যান সাহেব ফেরত দিয়ে দিবেন। অন্যথায় সামাজিকভাবে এর প্রতিকারে আমরা তরুণরা মাঠে নামবো। আটগাঁও ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মামুন আল কাওসারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প সত্যিকারের উপহার। এ ঘরগুলো বিনামূল্যে পাওয়ার কথা। আমি নিজেও কিছু ঘর পাইয়ে দিয়েছি, কাউকে কোন টাকা পয়সা দিতে হয়নি। কিন্তু হারিছ মিয়ার কাছ থেকে চেয়ারম্যান আবুল কাশেম আজাদ নাকি টাকা নিয়ে ঘর দিয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আবুল কাশেম আজাদ সাহেব নৌকার প্রার্থী ছিলেন, তিনি আমাদের লোক। কিন্তু দুর্নীতির সাথে আমাদের কোন আপোষ নেই। সত্যিই যদি চেয়ারম্যান সাহেব অনিয়ম করে থাকেন এবং তা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কামনার পাশাপাশি গরীব হারিছ মিয়ার দেয়ার টাকা সুদে-আসলে ৬০হাজার টাকা ফেরৎ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃস্টি আকর্ষণ করছি। এব্যাপারে আটগাঁও ইউপি’র চেয়ারম্যান আবুল কাশেম আজাদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার ‘স্বপ্নের নীড়’ দিতে আমি কারো কাছ থেকে কোনো টাকা পয়সা নিইনি। নেয়ার কথাও নয়। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের সুবিধাভোগীর তালিকা প্রশাসন করেছে। ইউনিয়ন পরিষদ শুধুমাত্র সহযোগিতা করেছেন বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক কু-চক্রীমহল উঠেপড়ে লেগেছে, আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়-প্রতিপন্ন করতে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে অভিমত ব্যক্ত করে ইউপি চেয়ারম্যান মি. আজাদ।