চেষ্টা করলে তার ব্যাবহত মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্কুল ছাত্র অনিক চন্দ্র ব্রাহ্ম হত্যার প্রতিবাদে শহরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা


স্টাফ রিপোর্টার::
স্কুল ছাত্র অনিক চন্দ্র ব্রাহ্ম হত্যার প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার শহরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। গত মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল ও কলেজের সাধারণ ছাত্রদের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়। গত রোববার বিকেলে শহরের নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে অনিক চন্দ্র ব্রাহ্মর গলায় রশি প্যাঁচানো রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে লাশের কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরদিন হাসপাতালে পরিবারের লোকজন গিয়ে তার লাশ শনাক্ত করেন। অনিক সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভগের ছাত্র এবং এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। স্কুলছাত্র অনিকের খুনের প্রতিবাদে এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। পৌর শহরে আলফাত স্কয়ারে প্রথমে মানববন্ধন এবং পরে শহরে বিক্ষোভ করেন তারা। মানববন্ধন চলাকলে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লৌহ, অনিকের বাবা প্রদীপ চন্দ্র ব্রাক্ষ, শিক্ষার্থী সাইম আবদুল্লাহ ও রাজন রায় প্রমুখ। অনিকেরা পৌর শহরের পশ্চিম নতুনপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকত। তাদের গ্রামের বাড়ি জেলার তাহিরপুর উপজেলার তেলিগাঁও গ্রামে। কয়লা ব্যবসায়ী প্রদীপ চন্দ্র ব্রাহ্ম সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য শহরে এসে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। পুলিশ জানায়, রোববার বিকেলে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কোর্ট এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের নিচ তলায় এক কিশোরের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে সেখানে থাকা লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে। তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। গলায় প্যাঁচানো ছিল রশি। পুলিশ অজ্ঞাত হিসেবে তার লাশটি উদ্ধার করেছিল। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার বেলা একটায় বাসা থেকে বের হয় অনিক। বিকালে না ফেরায় বাড়ির লোকজন ভাবেন, সে হয়তো দোল পূর্নিমার কোনো আয়োজনে কোথাও গেছে। কিন্তু রাতেও না ফেরায় দুশ্চিন্তায় অস্থির হয়ে যান তারা। সোমবার ভোর থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এরপর খবর পান পুলিশ এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে এবং লাশটি হাসপাতালে আছে। পরে তারা হাসপাতালে গিয়ে অনিকের বীভৎস লাশ দেখেন। অনিকের বাবা প্রদীপ ব্রাহ্ম জানান, অনিক শহরের অলিগলি- রাস্তাঘাটই ভালো করে চিনে না। কারো সঙ্গে তার বা তার ছেলের কোনো বিরোধ নেই। তিনি বুঝতে পারছেন না কারা, কেন এমন নির্মমভাবে তার ছেলেকে হত্যা করেছে। যেহেতু জানেন না কে বা কারা তার ছেলেকে হত্যা করেছে তাই তিনি থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মো. সহিদুর রহমান গত মঙ্গলবার দুপুরে জানান, স্কুলছাত্র অনিক হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা যায়নি।