কয়লা কুড়িয়ে সংসার চালায় যাদুকাটা নদী তীরবর্তী শ্রমিকেরা


হিমাদ্রি শেখর ভদ্র::
ফতার সময় ঘুম থাকি উঠি ভাত ছালুন নাইন্দা খাইয়া, জাল বেলচা,কোদাল লইয়া গাঙ্গ আই কয়লা তুলতে। সকাল থাকি শুরু করি কয়লা তোলার কাম বিহাল পর্যন্ত হাটু পানি কোমর পানিতে ভিজে বালি থেকে কয়লা বাইর করে বস্তায় ভরে পাড়ের নিয়ে এসে বিক্রি করি তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দরপাহাড়ি গ্রামের আছমা খাতুন এভাবেই নদীতে কয়লা সংগ্রহের কথা গুলো বলছিলেন । একই গ্রামের নুরেছা খাতুন বলেন, গেল বৈশাখ থেকে এলাকায় কোন কাজ কাম নাই করোনার কারণে সব বন্ধ হয়েছে। বন্যায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে গুড়া কয়লা ভেসে আসায় এখন তারা কাজ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন। প্রতিদিন একজন নারী একহাজার টাকা ও একজন পুরুষ দেড় হাজার টাকার কয়লা সংগ্রহ করতে পারছেন। বড়গোপটিলা গ্রামের নাজমা বেগম বলেন, তার পরিবারের ৫ সদস্য সবাই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নদীতে কয়লা সংগ্রহের কাজ করেন। কয়লা উত্তোলনের আগে তাদের দিন সীমাহীন দুঃখ কষ্টে দিন কাটতো । এখন কাজের সুযোগ পাওয়ায় পরিবারের অভাব অনটন নেই। আয়েশা খাতুন বলেন ভোরে খাবার খেয়ে নৌকা,জাল,বেলচা কোদালসহ কয়লা সংগ্রহের উপকরণ নিয়ে নদীতে এসে কয়লা সংগ্রহ করি। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের যাদুকাটা নদীতে ঢলের পানিতে ভেসে আসা কয়লা কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন হাজার হাজার শ্রমজীবি নারী পুরুষ। প্রতিদিন সকালে নৌকা, কোদাল,বেলচা,জাল নিয়ে নদীর তল দেশ থেকে বালি থেকে কয়লা পৃথক করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। এদিকে স্থানীয় কয়লা ব্যবসায়ীরা বলেন, শ্রমিকদের সংগ্রহ করা কয়লা তারা কিনে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন। এদিকে জেলা প্রশাসক জানান কয়লা কুড়ানো কাজ জেন কোন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি না হয় বিষয়টি জেলা প্রশাসন মনিটরিং করছে। প্রতিদিন ভোরে রান্নাবান্না শেষ করে যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী মাহারাম,বড়গোপ,লাউড়েরগড়, ঢালারপাড়, বিন্নাকুলি, ঘাগড়া, মাটিকাটা, মানিগাঁও, লাকমা, সুন্দরপাহাড়ি, রাজাই, চাঁনপুরসহ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভপুর ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও পাশ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার কয়েক হাজার শ্রমিক সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদী থেকে কয়লা সংগ্রহ করেন। ভোর থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত শ্রমিকরা নদীতে ভেসে আসা কয়লা সংগ্রহ করেন। একজন শ্রমিক প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ বস্তা কয়লা সংগ্রহ করতে পারেন। যার স্থানীয় বাজার দর এক থেকে দেড় হাজার টাকা। স্থানীয় কয়লা ব্যবসায়ীরা জানান, নদী থেকে কয়লা উত্তোলন করার ফলে ব্যবসায়ী শ্রমিক উভয়ে কর্মসংস্থান হয়েছে। এলাকার ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা কয়লা কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন। তাহিরপুর উপজেলা বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নিজাম উদ্দিন বলেন, করোনার পর এলাকার হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। যাদুকাটা নদীতে কয়লা উত্তোলন করার ফলে ব্যাপকভাবে কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, করোনা কালে শ্রমজীবি মানুষ বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে জেন কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেদিকে নজর রাখছে প্রশাসন। যাদুকাটা নদীর বারিকটিলা এলাকা থেকে ঢালারপাড় পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকা থেকে কয়লা সংগ্রহ করা হয়।