তাহিরপুরে বিদ্যুতের এ কী হাল!


স্টাফ রিপোর্টার::
তাহিরপুর উপজেলার কিছু এলাকায় গত দুই সপ্তাহ ধরে সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ পর্যন্ত টানা ১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে না। দুই সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ সকাল ৮ টার দিকে গেলে আসে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে। প্রতিদিনই এভাবে বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করায় উপজেলার বাদাঘাট, উত্তর বড়দল, দক্ষিণ বড়দল ও উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের কিছু এলাকার বাজার ও গ্রামের বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল মানুষজন অবর্ননীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, বিশ্বম্ভপুর ও বাদাঘাট ৩৩ কেভির মেইন লাইনের বিদ্যুৎ আপডেট, লাইন ভাগ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ বন্ধ রেখে পল্লী বিদ্যুতের মেইন লাইনের পুরাতন কাঠের খুটি পরিবর্তন করে পাঁকা খুটি স্থাপন করায় বেশ কয়েকদিন ধরে এই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে । এ সমস্যা চলবে আরও কয়েকদিন। তারা চেষ্টা করছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে মেইন লাইন মেরামত করে পল্লী বিদ্যুৎ স্বাভাবিক করতে। বালিয়াঘাট নতুন বাজারের ব্যবসায়ী ইসলাম উদ্দিন বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে টানা ১২ ঘন্টা করে নিয়মিত বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল বাজারের ব্যবসায়ীরা কঠিন সমস্যায় পড়েছেন। বিশেষ করে যারা এনজিও ঋন এনেছেন তারা সাপ্তাহিক কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না দোকানে কাজ করতে না পারায়। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান বলেন, বিদ্যুতের লাইন মেরামত করা জরুরী। তবে সারাদিন বন্ধ না রেখে দুপুর দিকে ১ থেকে দুই ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে বাজারের বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীর ব্যবসায়ীরা তাদের কাজ কিছুটা হলেও সারতে পারতো। তাহিরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক মোর্শেদ আলম বলেন, সুনামগঞ্জ থেকে বাদাঘাট আসা মেইন লাইনটি বিদ্যুৎ আপডেট করার কারনে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বর্তমানে এক উপজেলার বিদ্যুৎ দিয়ে দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কারনে এমন সমস্যা হচ্ছে। কিছুদিন বিদ্যুৎ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ধৈর্য্য ধারণ করতে তিনি অনুরোধ করেন। সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার অখিল কুমার শাহ বলেন, বাদাঘাট ও বিশ্বম্ভপুর ৩৩ কেভি বিদ্যুতের মেইন লাইন ভাগ করার কারনে দিনে লাইন অফ রেখে কাজ করতে হচ্ছে। যার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক মতো করা যাচ্ছে না। আপাতত জামালগঞ্জ থেকে বিদ্যুৎ এনে তাহিরপুর এলাকায় রাতে সরবরাহ করা হচ্ছে। আস্তে আস্তে বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হবে ।