ধর্ষকদের বিচারের দাবিতে উত্তাল রাজপথ


বিশেষ প্রতিনিধি::
১২৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ সিলেট এমসি কলেজ। সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে উচ্চ শিক্ষার আশা নিয়ে শিক্ষার্থীরা নামকরা এ কলেজে ভর্তি হন। অতীতের সুনাম জলাঞ্জলি দিয়ে ২০১২ সালে পুড়ানো হয় শতবর্ষী ছাত্রাবাস। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর নববধুকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ৬ পাষান্ড। ধর্ষণের এ ঘটনাটি গোটা দেশকে নাড়া দেয়। এমসি কলেজে এভাবে একের পর এক ঘটনায় সুনামগঞ্জের রাজপথ উত্তাল হয়ে উঠেছে। গত বুধবার শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে দোয়ারা, দিরাই-শাল্লা ও তাহিরপুর ছাত্র অধিকার পরিষদের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সোমবারে নারী উদ্যোক্তা সোসাইটি শহরে ধর্ষকদের শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন করে। একই দিন তাহিরপুর সুজনের উদ্যোগে একই দাবীতে নানা শ্রেণী পেশার মানুষের উপস্থিতিতে প্রতিবাদমুখর সভা অনুষ্ঠিত হয়। এভাবে প্রতিদিন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে কোথায় না কোথাও প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠছে রাজপথ। এ ব্যাপারে বেশ কিছু অভিভাবকদের মতামত জানতে চাইলে তারা বলেন, মানুষ গড়ার আঙ্গিনায় যদি ধর্ষণ, হত্যাসহ নানা অপরাধের জন্ম দেয় তাহলে ছেলেমেয়েদের এই কলেজে ভর্তি করে লাভ কি? বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে একের পর এক হত্যা ধর্ষণ সংগঠিত হচ্ছে। তারা দ্রুততম সময়ে আসামীদের গ্রেফতার করায় আইন-শৃংখলাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে দ্রুততম সময়ে আসামীদের শাস্তির দাবি তুলেন। তারা আরও বলেন ছাত্রাবাস পুড়ানোর ঘটনার বিচার সিলেটবাসী দেখেনি। এমন বিচারহীনতার কারণেই ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। ভবিষ্যতেও ভয়ানক অবস্থা বিরাজ করবে। এজন্য টিলাগড় কেন্দ্রিক দুর্বত্তপনার রাজনীতি মুলৎপাঠন করা আবশ্যক বলে মনে করছেন। লেখক ও কলামিস্ট এডভোকেট হোসেন তওফিক চৌধুরী জানান, সারা ভারত উপমহাদেশে এমসি কলেজের সুনাম রয়েছে। সম্প্রতি কলেজে হতভাগ্য গৃহবধুকে পালাক্রমে ধর্ষণের ঘটনায় সকল ঐতিহ্যের ম্লান হয়েছে। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামীদের বিচার কার্য সম্পুর্ন করে শাস্তির দাবি জানান।