বিশ্বম্ভরপুর-সুনামগঞ্জ চলাচলের সড়ক এখন মরণ ফাঁদ


জাকির হোসেন রাজু::
বিশ্বম্ভরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের চালবন পয়েন্ট হতে আব্দুজ জহুর সেতুর পশ্চিম পাড়ের রাধানগর পয়েন্ট পর্যন্ত সড়ক যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শত শত যানবাহনে বিশ^ম্ভরপুর, তাহিরপুর, মধ্যনগর ও ধর্মপাশার মানুষ জরুরী প্রয়োজনে জেলা সদরে আসতে হয়। সুত্র জানায়, গত বছরের কয়েক দফা বন্যায় রাস্তাটি ভেঙ্গে যান চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মেরামত না করায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে যাত্রী সাধারণকে। সড়কের বেহাল এই ভাঙ্গনের কারণে সিএনজি, মোটর সাইকেল কিংবা লেগুনা করে কোন যাত্রী যেতে চাইলে ঝাকুনির কারণে সুস্থ সবল মানুষও অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। তবুও জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যান বাহনে চড়তে হচ্ছে পথচারিদের। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই যান বাহন অচল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সড়ক তো নয় এ যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। চলাচলে প্রতিনিয়তই ঘটছে দূর্ঘটনা। মোটর সাইকেল চালক সেলিম আহমদ বলেন, এই রাস্তা দিয়ে চলতে গেলে জীবন ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। মনের মধ্যে প্রতিনিয়ত ভয় কাজ করে কখন যেন দূর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি দ্রুত এই রাস্তা সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করে তোলা হোক। অন্যথায় আমরা পরিবহন চালকরা আন্দোলন গড়ে তুলবো। সিএনজি চালক সুজন মিয়া বলেন, এই রাস্তা দিয়ে গাড়ী নিয়ে বের হলে প্রতিনিয়ত মনে ভয় হয়, কখন জানি গাড়ীর চাকা নস্ট হয়ে পড়ে থাকতে হয় কিংবা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়। তারপরও পেটের দায়ে গাড়ী নিয়ে রাস্তায় বের হতে হয়। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি যতো দ্রুত সম্ভব এই রাস্তার সংস্কার কাজ করা হোক। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ডালারপাড় গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর থানার বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ শহরে আসা-যাওয়া করেন। ভাঙা-চুরা সড়কে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্খা থাকে’। তবুও আমাদেরকে জীবিকার তাগিদে জীবন ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে জেলা শহরে যেতে হয়। সিরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ বলেন, চালবন পয়েন্ট হতে রাধানগর পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের অধিকাংশ স্থান মারাত্মকভাবে ভেঙেছে। এই ভাঙনের কারণে সড়ক দিয়ে যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে অসুস্থ মানুষকে নিয়ে যাওয়া হলে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিশেষভাবে গর্ভবতি নারীদের এই রাস্তা দিয়ে জেলা সদরে নিয়ে যেতে হলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেতে হয়। তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী গ্রামের বাসিন্দা মাসুক মিয়া বলেন, এই সড়ক এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার এমন বেহাল অবস্থা থাকার পরও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে সহজেই বুঝা যায় কর্তৃপক্ষ এই রাস্তার উন্নয়ন কাজে কতটুকু দায়িত্বশীল। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণে ভাঙ্গা এই সড়কে প্রতিনিয়তই ঘটছে দূর্ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরকারি দিগেন্দ্র বর্মন কলেজের প্রভাষক মো. মশিউর রহমান লিখেছেন, সুনামগঞ্জ আব্দুজ জহুর সেতুর পশ্চিম প্রান্ত হতে চালবন পয়েন্ট পর্যন্ত রাস্তাটির বেহাল দশা। বিশেষ করে লালপুরের রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। বিশ^ম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার মানুষের চলাচলের প্রধান রাস্তা এটা। প্রতিদিন শত শত গাড়ি চলাচল করে এই রাস্তা দিয়ে। রাস্তার বেহাল দশার কারণে যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সড়ক জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, টেন্ডার হয়েছে, অচিরেই কাজ শুরু হবে।