ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবনে চলে পাঠদান


মো: আলা উদ্দিন,দোয়ারাবাজার::
প্রায় এক যুগ ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ভবনের বিভিন্ন জয়েন্টে জয়েন্টে ফাটলসহ পলেস্তারা উঠে গেছে। ক্লাস চলাকালীন সময় পলেস্তারা পড়ে যাচ্ছে বলে দাবি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘদিন ধরেই উপজেলার আমবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ অবস্থার মধ্যে ক্লাস করেছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে সামান্য বৃষ্টি হলেই ওই বিদ্যালয়ের ফ্লোর পানিতে ডুবে যায়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতর বারবার জানালেও সংশ্লিষ্টরা কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। করোনাকালীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও জানুয়ারি ১৬ তারিখ থেকে পুনরায় স্কুল কার্যক্রম শুরু হলে আবারও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ক্লাশ নিতে হবে। ওই বিদ্যালয়ে বিকল্প ভবনে পাঠদানের সুযোগ নেই। শিক্ষার্থী তুলনায় একাডেমিক ভবন নেই। জানা যায়, উপজেলার আমবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৭ সালে ৬ কক্ষ বিশিষ্ট ওই ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১২’শ ৫৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ওই ভবনের ঢালাই ভেঙে বিভিন্ন স্থানে রড বের হয়ে গেছে। বর্তমানে ভবনের প্রতিটি জয়েন্টে জয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনও সময় ওই ভবনটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান আহাম্মদ বলেন, বিদ্যালয় পুরাতন ভবনের ছাদ, পিলার ও ভীম ফেঁটে গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই অষ্টম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে। ক্লাসকালে অনেক সময় পলেস্তারা খসে যায়। তাই আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস চলছে। বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আবদুর রশীদ বলেন, বিদ্যালয়ের বহু পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। যে কোন সময় ছাদ ভেঙে বড়ো ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে। অতি দ্রুত ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাই। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজাদুর রহমান আজাদ বলেন, নতুন ভবনের জন্য আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করবো।