নতুন বইয়ের আনন্দে লাখো শিক্ষার্থী, মাধ্যমিকে বঞ্চিত হাজারো


জগন্নাথপুর প্রতিনিধি::
জগন্নাথপুরে বছরের নতুন দিনে নতুন বই পায়নি ২৪টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ফলে নতুন বইয়ের উৎসব থেকে বঞ্চিত হয়েছে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী। তবে গতকাল শুক্রবার ৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ করা হয়েছে। এদিকে প্রাথমিক পর্যায়ে নতুন বইয়ের গন্ধে মাতোয়ারা ছিল শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ে তাদের হাতে বই তুলে দেয়া হয়েছে গতকাল। উপজেলা সরকারি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক অফিস সুত্র জানায়, জগন্নাথপুরে এবার মাধ্যমিক পযার্য়ে দুই লাখ ১৬ হাজার ৮শ’ নতুন বইয়ের চাহিদা ছিল। এরমধ্যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে এক লাখ ৪ হাজার বই। দাখিলে বই পাওয়া যায়নি। তবে ইবতেদায়ীর শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেয়েছে। উপজেলার ৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬টি বিদ্যালয়ে বই বিতরণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে: উপজেলা সদরের স্বরূপ চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, গুলবাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও শ্রীরামসী উচ্চ বিদ্যালয়। অন্যদিকে ২৪টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন বই পায়নি। এসব বিদ্যালয়ে বই বরাদ্দ না থাকায় বই উৎসব থেকে বঞ্চিত হয় শিক্ষার্থীরা। উপজেলার পাইলগাঁও বিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পঙ্কজ সরকার বলেন, আমরা নতুন বই পায়নি। এজন্য শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে পারিনি। তিনি জানান, তাঁদের বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেণী থেকে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত ৬শ’ শিক্ষার্থী রয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলার শিক্ষক প্রতিনিধি উপজেলার ছিক্কা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রূপক কান্তি দে জানান, উপজেলার শিক্ষা কার্যালয়ের তত্বাবধানে উপজেলার সবকটি বিদ্যালয়ে চাহিদার আলোকে শতভাগ বই আগেই পৌঁছে যায়। বছরের প্রথম দিনে প্রতিটি বিদ্যালয়ে আমরা শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেই। তিনি বলেন, নতুন বই প্রাপ্তির আনন্দে শিক্ষার্থীদে উপস্থিতি ছিল উৎসবমূখর। জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, চাহিদা অনুয়ায়ী আমরা নতুন পাঠ্য বই পেয়েছি। এবার এক লাখ ৬৪ হাজার ৭৯ বই পাওয়া গেছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমরা বই বিতরণ শুরু করেছি। জগন্নাথপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম মোখলেছুর রহমান জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে এবার চাহিদা অনুয়ায়ী নতুন পাঠ্যবই পাওয়া যায়নি। তবে যেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বই পায়নি দ্রুত তাঁদের মধ্যে নতুন বই পৌঁছে দেয়া হবে। তিনি জানান, ২৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মোট তালিকা এই মুর্হুতে আমাদের নিকট নেই। তবে এব বিদ্যালয়ে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী হতে পারে। জগন্নাথপুরের ইউএনও মেহেদী হাসান বলেন, সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে নতুন পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।