সরকারী নির্দেশ না মেনে পরিক্ষার নামে বেতন আদায় করছে সৃজন বিদ্যাপীঠ


স্টাফ রিপোর্টার ঃ
সুনামগঞ্জে পাঠদান না করে মডেল টেস্ট পরিক্ষার নামে স্কুল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন আদায়ের চেষ্ঠা করছে সৃজন বিদ্যাপীঠ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ফেইসবুক পেইজে বেতন জমাদানের উল্লেখ করে নোটিশ জারি করেছেন। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষি হয়েছে। জানাযায়, শহরের হোসেন বখত চত্তর সংলগ্ন সৃজন বিদ্যাপীঠ নামের প্রতিষ্ঠানটি করোনাকালের ৬ মাস পাঠদান থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ক্লাস না করে হঠাৎ করে ফেইসবুক পেইজে মডেল টেস্ট পরিক্ষা এবং বেতন হালনাগাদ করার নোটিশ জারি করেন। নোটিশে মডেল টেস্ট পরিক্ষার নিয়মাবলী ও উত্তরপত্র জমা দেয়ার তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। বাসায় বসে পরিক্ষা দিয়ে উত্তরপত্র অভিভাবকদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। নোটিশের শেষে বেতন হালনাগাদ করার কথা বলা হয়েছে। সৃজন বিদ্যাপীঠের এক অভিভাবক জানান, সরকার যেখানে অটো প্রমোশনে চিন্তা করছে সেখানে পরিক্ষা নেয়ার কোন মানে হয় না। এটি হলো বেতন আদায়ের একটি কৌশল। তিনি দ্রুত এ সিদ্ধান্ত বাতিলের আবেদন জানান। বিদ্যালয়ের অভিভাবক সেলিম আহমদ জানান, আমার ছেলে নার্সারী-২ তে পড়ে। প্রতিমাসে ৬ শ টাকা করে করোনাকালীন ৬ মাসের বেতন হয়েছে ৩৬০০ টাকা। এককালীন এত টাকা দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছেনা। সরকার ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। সেই নির্দেশ অমান্য করে বাড়িতে পরিক্ষা নেয়ার নামে বেতন আদায়ে ফন্দি করছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রভাষক মশিউর রহমান জানান, করোনার কারনে এমনিতেই শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকরা চাপে আছেন। সরকার ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করেছে। সৃজন বিদ্যাপীঠকে সরকারের সেই সিদ্ধান্তের মেনে নেয়া উচিৎ। এছাড়া বাসায় বসে পরিক্ষা নিলে বই দেখে দেখে উত্তরপত্র লিখে দিতে পারে। এতে করে শিক্ষার্থীরা আরো বেশি মেধা শুন্য হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। সৃজন বিদ্যাপীঠের সহকারী শিক্ষন মোত্তাকিন রহমান বলেন, করোনাকালে আমরা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস নিয়েছি। এবং শিক্ষার্থীদের বাসায় শীট পাঠিয়েছি। এখন ক্লাসের আপডেট পেতে বাসায় থেকে মডেল টেস্ট পরিক্ষা নেবো। আর সরকার আমাদের কোন প্রনোদণা দেয়নি। ফলে শিক্ষকরা আর্থিক সংকটে রয়েছেন। তাই শিক্ষার্থীদের বেতন হালনাগাদ করার বলা হয়েছে। কেউ টাকা না দিতে পারলেও পরিক্ষায় অংশ নিতে পারবে বলেও তিনি জানান। অতিরিক্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকারী নির্দেশনা সকল প্রতিষ্ঠানকে মানতে হবে। আমরা এ প্রতিষ্ঠানকে পরিক্ষা নেয়ার কোন অনুমতি দেইনি। তারা এ অধিকার কোথায় পেল জানা নেই। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল আহাদ বলেন, সরকারী নির্দেশ উপেক্ষা করে পরিক্ষা নেয়ার কোন সুযোগ নেই।