বিশ্বম্ভরপুরের পুঁতি শিল্পী কাউছার আলমের হাতে তৈরি বঙ্গবন্ধু’র পুঁতির পোর্টেট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে


স্টাফ রিপোর্টার::
বিশ^ম্ভরপুরের পুঁতি শিল্পী কাউছার আলমের হাতে তৈরি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু’র পুঁতির পোর্টেট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের দর্শনীয় স্থানে রেখেছেন কর্তৃপক্ষ। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট‘এর কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানিয়েছেন, পুঁতির এই পোর্টেটটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে আসলে যে কক্ষে বসেন, সেই কক্ষের সামনে রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যখনই এই অফিসে আসবেন, তিনি দেখে যেখানে রাখার নির্দেশ দেবেন, সেখানেই রাখা হবে। পোর্টেটে একটি ডিভাইস লাগানো রয়েছে ¯øুইস টিপলেই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শুনা যাবে। বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার বাগগাঁও গ্রামের ইছাক মিয়া ও হালেমা খাতুনের ৪ ছেলে মেয়ের মধ্যে তৃতীয় সন্তান কাউছার আলম ৩ বছর রাত দিন কেটে বঙ্গবন্ধুর পুঁতির এই পোর্টেটটি তৈরি করেছে। গত ১৬ মার্চ পোর্টেটটি নিয়ে গণভবনে যায় সে। গণভবনের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ওখানে পাঠিয়ে দেন তাকে। পোর্টেটটি এখন সেখানেই রয়েছে। কাউছার আলম জানান, গত পাঁচ বছর ধরে পুঁতি দিয়ে আল্লাহ্, মা-বাবা, ফুলদানি, টিসুবক্স, কলমদানি ও ব্যাগসহ ৩০ রকমের কিছু পণ্য তৈরি ও বিক্রয় করছেন তিনি। নারীদের প্রশিক্ষণ দেবার জন্য ছোট একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও রয়েছে তাঁর। ২০১৮ সালে তাঁর চিন্তায় আসে পুঁতি দিয়ে মানুষের পোর্টেট বা ছবি তৈরি করা যায় কী-না। প্রথমেই তিনি ভাবেন তাঁর স্বপ্নের পুরুষ, বাঙালি জাতির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পোর্টেট তৈরি করার কাজ দিয়েই শুরু করবেন তিনি। প্রথম দেড় বছর কাজ করে সফল হতে পারেন নি কাউছার। কিন্তু তিনি হতাশ হননি, মুজিব বর্ষকে সামনে রেখে রাতদিন কেটেছেন এবং এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর পোর্টেট তৈরি‘র কাজে সফল হন তিনি। এই পোর্টেটটির কাজ শেষ করে, তাঁর আকাঙ্খা জাগে তিনি বঙ্গবন্ধু‘র জ্যেষ্ঠ কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এটি তুলে দেবেন। এজন্য তিনি জেলা প্রশাসকসহ অনেকের সহায়তা চান। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ফেসবুকে তার এই প্রচেষ্টা তুলে ধরেন। ফেসবুকে দেখে সুনামগঞ্জের ছেলে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী বদরুল আলম চৌধুরী আগ্রহ প্রকাশ করেন তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করিয়ে দেবার চেষ্টা করবেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর পোর্টেটটি সহ ঢাকায় যেতে বলেন। ঢাকায় গিয়ে তিনদিন চেষ্টা করে গত ১৬ মার্চ গণভবনের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত হয় তার। নিরাপত্তা কর্মকর্তা কাউছারকে জানান, করোনার জন্য এখন আর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা সম্ভব নয়, তবে তার এই কারুকাজ তিনি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের কর্মকর্তাদের কাছে রাখতে পারেন, করোনার পর প্রধানমন্ত্রী দেখবেন। পরে নিরাপত্তা কর্মকর্তাই ধানমন্ডিতে বলে দেন এবং সেখানে তিনি পোর্টেটটি রেখে এসেছেন। কাউছার আলম বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট্রের কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার পোর্টেটটি রেখে তাকে বলেছিলেন, এর বিনিময় মূল্য কত টাকা কিংবা এর বিনিময়ে আমি কী চাই। আমি বলেছি, আমি কিছুই চাই না, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে আমার এই কাজটি যাতে দীর্ঘদিন মানুষ দেখে সেই আবদার করবো। কাউছার জানালেন, তার তৈরি দ্বিতীয় পোর্টেটটি মরমি কবি হাসন রাজা‘র। কাউছার জানালেন, তার বাবা সবজি বিক্রেতা, বিশ^ম্ভরপুর সরকারি দিগেন্দ্র বর্মণ ডিগ্রি কলেজ থেকে বিএ পাস করে সংসার চালাতে বাবাকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি পুঁতির কাজ করে সামান্য পরিমানে আয় করেন। শহরতলির মুসলিমপুর গ্রামে ছোট একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১০-১২ জন আগ্রহীকে তিনি এই কাজের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। পাশাপাশি শহরের মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরীতে অফিস সহায়কের চাকুরি করছেন। এই প্রসঙ্গে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট্রের কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বললেন, কাউছারের পুঁতির তৈরি বঙ্গবন্ধু‘র পোর্টেটটি আমরা গ্রহণ করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে আসলে যে কক্ষে বসেন, সেই কক্ষের সামনে প্রধানমন্ত্রী ঢুকতেই যাতে এই পোর্টেট দেখেন, সেখানেই রাখা হয়েছে। তিনি করোনার জন্য কারো সঙ্গে দেখা করছেন না, ধানমন্ডির অফিসেও এখনো আসেন নি কাউছারকে সেটি জানিয়ে বলা হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই পোর্টেট দেখে যেখানে রাখার নির্দেশ দেবেন, সেখানেই রাখা হবে।